মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২

তিতুমীরের আন্দোলন কী সাম্প্রদায়িক ছিল ?

Clg history questions answers কলেজ প্রশ্নোত্তর তিতুমীরের আন্দোলন কী সাম্প্রদায়িক ছিল titumirer andolan ki samprodaayik chilo


উত্তর : তিতুমিরের আন্দোলন ব্যর্থ হয় , রেখে যায় বহু বিতর্ক । সমসাময়িক পত্রিকা ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ ওয়াহাবি আন্দোলনকে মুসলিম সম্প্রদায়ের হিন্দু বিরােধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হিসাবে দেখেছে । সরকারি আমলারা তিতুমীরকে ডাকাতের সর্দার বলে মনে করতেন । ড . ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত বলেছেন , তিতুমীরের বিদ্রোহ হল হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর মুসলিম সম্প্রদায়ের সরাসরি আক্রমণ । তিতুমীরের জীবনীকার বিহারীলাল সরকার তিতুমীরকে ‘বড়ােই দুর্বুদ্ধি’ বলে নিন্দা করেছেন । সম্প্রতি ড . অভিজিৎ দত্ত তাঁর 'Muslim Society in Transition : Titu Meer's Revolt’ গ্রন্থে এই বিষয়ে গবেষণা করেছেন । তার মতে এই বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল ‘প্রকৃত বা খাঁটি ইসলামের প্রচার’ যার জন্য তিতুমীর ও তার অনুগামীরা সাম্প্রদায়িকতার যে - কোনাে স্তর পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত ছিল । আবার গ্রন্থের অন্য স্থানে তিনি বলেছেন , তিতুমীরের বিদ্রোহ সাম্প্রদায়িক হলে সমস্ত মুসলিম তাতে যােগ দেননি । 

অন্যদিকে অনেক ইংরেজ ও পাকিস্তানি ঐতিহাসিক এই বিদ্রোহের অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন । থর্নটনের মতে তিতুমীরের আন্দোলন প্রথমদিকে মূলত ধর্মীয় আন্দোলন হলেও জমিদারের অত্যাচারই এই আন্দোলনকে একটি বড়াে আকার দেয় । অর্থাৎ এটি ছিল একটি কৃষক বিদ্রোহ । হান্টার সাহেবও মনে করেন যে , এই বিদ্রোহ মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্ম সংস্কার আন্দোলন হিসাবে শুরু হলেও হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে দরিদ্র প্রজাদের প্রতি জমিদারদের নির্মম অত্যাচারই এই বিদ্রোহের ব্যাপকতা ও ব্যাপ্তির প্রধান কারণ । অন্যদিকে পাকিস্তানি ঐতিহাসিকরা তিতুমীরের বিদ্রোহের দুটি বৈশিষ্ট লক্ষ্য করেছেন । 

প্রথমত । এই বিদ্রোহ হচ্ছে মুসলিম জাতীয়তাবাদের প্রতীক , যার লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিনাশ । 

দ্বিতীয়ত । বিদ্রোহ ছিল হিন্দুসম্প্রদায় বিরােধী । নরহরি কবিরাজ এই আন্দোলনের ব্যাখ্যা করেছেন অর্থনৈতিক কারণে উদ্ভূত শ্রেণিসংগ্রাম হিসাবে । বিনয় ঘােষও সুপ্রকাশ রায়ও তিতুমীরের বিদ্রোহকে মূলত কৃষক বিদ্রোহ ও শ্রেণিসংগ্রাম হিসাবে চিহ্নিত করেছেন । 


তিতুমীরের আন্দোলনকে ওয়াহাবি আন্দোলন বলা যায় কিনা তা নিয়েও বিতর্ক আছে । অনেক ঐতিহাসিক এদের মধ্যে পার্থক্য দেখেছেন । তবে নিরপেক্ষ বিচারে একথা বললে বােধহয় ভুল হবে না যে , তিতুমীরের বিদ্রোহ ধর্মীয় পুনরুজ্জীবন হিসাবে শুরু হলেও তা প্রথমে জমিদার , নীলকরদের বিরুদ্ধে ও পরে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়েছিল ।



সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২

ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলনের সামাজিক গুরুত্ব কী ?

Clg history questions answers কলেজ প্রশ্নোত্তর ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলনের সামাজিক গুরুত্ব কী brammosomaj andoloner samajik gurutto ki


উত্তর : উনিশ শতকে ভারতে ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক আন্দোলনের অন্যতম উল্লেখযােগ্য প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি ছিল ব্রাহ্মসমাজ । উপনিষদকে ভিত্তি করে রামমােহন ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ‘ব্রাহ্মসমাজ’ নামে একটি একেশ্বরবাদী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন । এই ধর্মসংঘের উদ্দেশ্য ছিল পৌত্তলিকতাবাদ বর্জন করে নিরাকার ব্রহ্মের উপাসনা করা । ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠার মূলে দুটি বিশেষ উদ্দেশ্য দেখা যায় । একদিকে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারকদের প্রকট হিন্দুবিদ্বেষ ভারতীয় ধর্ম ও সমাজ জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল । অন্যদিকে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের কুসংস্কার ও কুপ্রথাগুলিকে দূর করতে না পারলে ধর্ম ও সমাজের অস্তিত্বরক্ষা করা সম্ভব ছিল না । এই অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ।

১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে রামােহনের মৃত্যুর পর ব্রাহ্ম আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়ে । তারপর ব্রাহ্মসমাজের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ( ১৮১৭-১৯০৫ খ্রিঃ ) । দেবেন্দ্রনাথ ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে  ‘তত্ত্ববােধিনী সভা’ স্থাপন করেন । এই প্রতিষ্ঠান দলমত নির্বিশেষে সকল বাঙালি বুদ্ধিজীবীর মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয় । এর প্রদান উদ্দেশ্য ছিল সংস্কারমুক্ত ধর্ম আলােচনা । কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে ব্রাহ্মসমাজে আরও পরিবর্তন সাধিত হয় । তিনি ব্রাহ্ম আন্দোলনকে সামাজিক আদর্শ ও ধর্মবিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন ।

কেশবচন্দ্র পৌত্তলিকতা ও জাতিভেদ প্রথার বিরােধী ছিলেন এবং শেষােক্ত বিষয় নিয়ে আদি ব্রাহ্মসমাজ -এর সঙ্গে মতভেদ ঘটে এবং তরুণ ব্রাহ্মগণ কেশবের নেতৃত্বে ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত করেন । কেশবচন্দ্রের পরিচালনায় ব্রাহ্মমসমাজ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ছিল না , সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রেও বিশেষ তৎপর হয়েছিল । যেমন স্ত্রীজাতির উন্নতি, শ্রমিকশ্রেণির শিক্ষা ব্যবস্থা, মাদকদ্রব্য বর্জন প্রভৃতি ব্যাপারে ব্রাহ্মসমাজ জনমত গঠনে সচেষ্ট হয় । দুঃখের বিষয় কেশবচন্দ্র - এর সঙ্গে শিবনাথ শাস্ত্রী , আনন্দমােহন বসু প্রমুখ নবীন ব্রাহ্মনেতাদের বিরােধ সৃষ্টি হলে তারা ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন । যাহােক ব্রাহ্ম আন্দোলনে তিনি নতুন উদ্দীপনা ও চেতনার সঞ্চার করেন ও ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করে ব্রাহ্মধর্ম প্রচারে আত্মনিয়ােগ করেন ।

অভ্যন্তরীণ বিভেদের ফলে ব্রাহ্মসমাজের সাংগঠনিক শক্তি ক্রমশ শিথিল হয়ে পড়ে । কিন্তু দুর্বলতা সত্ত্বেও ব্রাহ্ম আন্দোলন কোনাে নিছক ধর্ম-আন্দোলন ছিল না । মূলত ব্রাহ্ম আন্দোলনের প্রভাবে সরকার তিন আইন প্রবর্তনের ( ১৮৭২ খ্রিঃ ) মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেছিলেন । শ্রমজীবী মানুষের উন্নতিকল্পেও ব্ৰহ্ম নেতাদের উদ্যোগ বিভিন্ন পদক্ষেপ গৃহীত হয় । ভারতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথ প্রস্তুতে ব্রাহ্মসমাজের বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল ।





রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২

হায়দার আলির সঙ্গে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সম্পর্ক আলােচনা করাে ।

Clg history questions answers কলেজ প্রশ্নোত্তর হায়দার আলির সঙ্গে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সম্পর্ক আলােচনা করাে haidar alir songhe ingrej east indian companyr somporko alochona koro


উত্তর : অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধের সূচনায় হায়দার আলি ছিলেন মহীশূরের প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান সেনাপতি নঞ্জরাজের এক সামান্য নায়েব । হায়দার আলি বিশৃঙ্খলার সুযােগ গ্রহণ করে নিজ কৃতিত্বের জোরে নঞ্জরাজকে অপসারণ করে মহীশূর রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা দখল করেন ( ১৭৬১ ) ও মহীশূরের রাজাকে তার ক্রীড়নকে পরিণত করেন । রাজার মৃত্যু হলে তিনি নিজে রাজা হন এবং রাজ্যবিস্তারে সচেষ্ট হন । 


হায়দারের সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্ক : হায়দারের নেতৃত্বে মহীশূর রাজ্যের উত্থান মারাঠা , নিজাম বা ইংরেজ কেউই প্রীতির চোখে দেখতে পারেনি । তাই ইংরেজ কোম্পানি মারাঠা , নিজামের সঙ্গে একটি জোট গড়ে তােলে । এককভাবে এই জোটের সঙ্গে যুদ্ধ সম্ভব নয় , বুঝে হায়দার প্রচুর অর্থ দিয়ে মারাঠাদের নিরস্ত্র করেন । নিজামকেও কৌশলে ইংরেজপক্ষ ত্যাগ করতে রাজি করেন । 


প্রথম ইঙ্গ - মহীশূর যুদ্ধ : মাদ্রাজের ইংরেজ সরকার একইভাবেই হায়দারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে । এরপর ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে হায়দার মাদ্রাজ আক্রমণ করলে ইংরেজরা মাদ্রাজের - এর সঙ্গে সন্ধি করতে বাধ্য হয় । এই সন্ধির শর্ত অনুসারে ( ১ ) উভয়পক্ষই পরস্পরের বিজিত স্থান ও যুদ্ধবন্দী প্রত্যর্পণ করে । ( ২ ) মহীশূর রাজ্য অপর কোনাে শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হলে ইংরেজরা সৈন্য দিয়ে তাকে সাহায্য করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হয় । এই শেষােক্ত শর্তের জন্য হায়দার যুদ্ধে জয়লাভ করেও ইংরেজদের কাছে কোনাে কিছু দাবি করেননি । কিন্তু তিনি তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বুঝতে পেরেছিলেন যে , ইংরেজদের প্রতিশ্রুতির কোনাে মূল্য নেই । 



দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ : অল্পকালের মধ্যেই মারাঠারা মহীশূর আক্রমণ করলে ইংরেজরা পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নিরপেক্ষ থাকে । এরূপ বিশ্বাসঘাতকতায় হায়দার ইংরেজদের ওপর ক্রুদ্ধ হন । এরপর কয়েক বছরের মধ্যেই আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধকে উপলক্ষ করে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে যুদ্ধ বাধলে ইংরেজরা ভারতস্থ ফরাসি উপনিবেশগুলি দখল করতে আরম্ভ করে এবং মাহে , অধিকার করে । মাহে বন্দরটি হায়দারের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ করেন । ইংরেজরা এই প্রতিবাদে কর্ণপাত না করলে হায়দার নিজাম ও মারাঠাদের সঙ্গে এক শক্তিসংঘ গঠন করেন এবং ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজদের বিরুদ্ধে অপূর্ণ হন । তিনি প্রচণ্ড বিক্রমে ইংরেজ বাহিনীকে আক্রমণ ও পরাজিত করে আর্কট দখল করেন । দাক্ষিণাত্যের ইংরেজদের এই শােচনীয় অবস্থা থেকে রক্ষা করবার জন্য ওয়ারেন হেস্টিংস বাংলা থেকে বিরাট বাহিনী পাঠান , এই বাহিনী সুকৌশলে মারাঠা ও নিজাম থেকে হায়দারকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে । হায়দার এককভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যান । এই সময়ে অকথাৎ ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে হায়দারের মৃত্যু হয় । 


উপসংহার : ইংরেজদের সঙ্গে সংঘর্ষে অবতীর্ণ হয়ে হায়দার নিজস্ব সামরিক ও কুটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন । তিনি ছিলেন একজন সুযােগ্য সৈনিক ও সুচতুর কূটনীতিবিদ । তিনি কখনাে বিচ্ছিন্নভাবে ইংরেজদের সঙ্গে সংঘর্ষে নামেননি । এছাড়া হায়দার যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে সাফল্য অর্জন করেছিলেন । কিন্তু তার পুত্র টিপু সুলতানের সময়কালে মহীশূর রাজ্য সংকটের আবর্তে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল ।



শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

মারাঠাদের পতনের কারণ আলােচনা করো ।

Clg history questions answers কলেজ প্রশ্নোত্তর মারাঠাদের পতনের কারণ আলােচনা করো marathader potoner karon alochona koro


উত্তর : শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠা জাতির অভ্যুত্থান নিঃসন্দেহে ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা । ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর একদিকে মুঘল রাজশক্তির ক্রম অভ্যুত্থান এবং অন্যদিকে প্রথম তিনজনের নেতৃত্বে মারাঠা শক্তির দ্রুত বিকাশ মুঘলদের স্থলে মারাঠাদের নেতৃত্বে ভারতীয় সমাজের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিল । কিন্তু দপ করে জ্বলে উঠে অকস্মাৎ নিভে যাবার মতাে মারাঠা শক্তিও সকল ভবিষ্যৎ বাণী বা স্বপ্ন সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে অকস্মাৎ পতনের কোলে ঢেলে পড়ে । ঐতিহাসিকরা মারাঠাদের পতনের কারণগুলিকে নানা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষণ করেছেন । 

আচার্য যদুনাথ সরকার মারাঠা শক্তির পতনের জন্য মারাঠাদের স্থিতিশীল সমাজব্যবস্থা এবং অগ্রসর তথা বদ্ধ অর্থনীতিকে দায়ী করেছেন । মারাঠা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি ছিল খুবই দুর্বল । মহারাষ্ট্রের জমি ছিল উপত্যকাময় ও পাথুরে , স্বভাবত এই অনুর্বর জমিতে কিভাবে কৃষির উন্নয়ন করা যায় বা সেচ , খাল খনন করা প্রভৃতির কোনাে উদ্যোগ পেশােয়াররা নেননি , উপরন্তু কৃষকদের উপর সরকারি কর্মচারীদের জুলুম ছিল সীমাহীন । মহারাষ্ট্রের উপকূলে বন্দর ছিল । মহারাষ্ট্রের তুলা উৎপাদিত হতাে , যথেষ্ট খনিজ দ্রব্যও ছিল । কিন্তু এইসব উৎসকে কাজে লাগাবার মতাে শিক্ষা , দূরদৃষ্টি বা উদ্যম মারাঠা নেতৃবৃন্দের ছিল না, অর্থ আদায়ের উৎস হিসাবে মারাঠা নির্ভরশীল ছিল চৌথ ও সবদেশমুখী জবরদস্তিমূলক করের উপর অথচ এই ধরনের অনিশ্চিয়তার উপর নির্ভর করে একটা দেশ বা জাতি দীর্ঘকাল টিকে থাকতে পারে না । 

মারাঠাদের মধ্যে যােগ্যতার অভাব এবং ক্ষমতাশীন নেতাদের অযােগ্যতাও অক্ষমতা মারাঠা শক্তির পতনকে ত্বরান্বিত করে । বালাজি বিশ্বনাথ , প্রথম বাজিরাও কিংবা প্রথম মাধব রাও - এর মতাে দক্ষ ব্যক্তিত্ববান ও কর্ম উদ্যোগী পেশােয়া অন্যান্যরা ছিলেন না । 

ঐতিহাসিক তারাচাদ , এন.সি. কোলকার প্রমুখ মারাঠা নেতাদের অন্তদ্বন্দ্ব স্বার্থপরতা , বিচ্ছিন্নতাবাদী মনােভাব প্রভৃতি সাম্রাজ্যের অবক্ষয় ও পতনের অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করেন । 

অনেক ঐতিহাসিকেরা মারাঠারাজ্যের পতনের জন্য বহুলাংশে দায়ী করেছেন রাষ্ট্রসংঘের সাংগঠনিক দুর্বলতাকে । যেমন সামরিক ব্যবস্থার উপর মারাঠা রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং ...ভত্তি করে । প্রথমে শিবাজী ও পরে পেশােয়াররা ছিলেন মারাঠা সংঘের কেন্দ্রবিন্দু । ক্রমে বংশানুক্রমিক অধিকার মারাঠা সাম্রাজ্যের অগ্রাধিকার পেলে কর্মদক্ষতা সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়, মারাঠা রাষ্ট্রের আর একটি সাংগঠনিক ত্রুটি ছিল সামন্ততন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন , এই প্রথম পুনঃপ্রবর্তিত হওয়ায় রাজার ক্ষমতা কমে গিয়ে পেশােয়ার আধিপত্য বাড়ে এবং আঞ্চলিক শক্তির প্রাধান্য পরিলক্ষিত হয় । 

মারাঠা ঐতিহাসিক সরদেশাই , রাজ ওয়ারেন প্রমুখ মনে করেন মারাঠাদের আধুনিক শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব তাদের এমনভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে সুশিক্ষিত ইংরেজদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছিল । আবার কেউ কেউ মারাঠা সমাজের শ্রেণিভেদ ও বর্ণবৈষম্য প্রথাকে পতনের কারণ বলে উল্লেখ করেছেন । 

উপরিউক্ত আলােচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে উপরিউক্ত প্রত্যেকটি কারণই মারাঠা শক্তির পতনে কমবেশি দায়ী ছিল ।



শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

পেশােয়াদের সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্ক আলােচনা কর ।

Clg history questions answers কলেজ প্রশ্নোত্তর পেশােয়াদের সঙ্গে ইংরেজদের সম্পর্ক আলােচনা কর peshoyarder songhe ingrejder somporko alochona koro

উত্তর : মুঘল সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তুপের ওপর যে সকল আঞ্চলিক রাজ্য গড়ে উঠেছিল তাদের মধ্যে সামরিক উল্লেখযােগ্য ছিল মারাঠার পেশােয়া শক্তি । যা ইংরেজদের প্রবলভাবে রাজ্য বিস্তারে বিঘ্ন ঘটাতে শুরু করেছিল । উদ্ভবের সময় থেকেই মারাঠা রাষ্ট্রের পেশােয়াদের এই অভ্যুত্থান কোনাে আকস্মিক ঘটনা নয় । মারাঠাদের শাসনতন্ত্রের ছত্রপতি সমস্ত ক্ষমতার অধিকারী হলেও মন্ত্রী পরিষদ যথেষ্ট মর্যাদার অধিকারী ছিল এবং এই মন্ত্রী পরিষদে অন্যতম সদস্য ছিলেন পেশােয়া বা প্রধানমন্ত্রী । ড . সেন মন্তব্য করেন হােলি -রােমান সাম্রাজ্যের সম্রাটের পক্ষে রােমে অভিষিক্ত হওয়া যেমন আবশ্যিক ছিল তেমনই ভারতবর্ষে ইংরেজ শক্তি বিস্তারের পথে পেশােয়াতন্ত্রের অবিষেকের আবশ্যিকতাও উল্লেখযােগ্য । 

      
মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ প্রশাকক ও প্রভাবশালী অভিজাত জুলফিকার খার পরামর্শে মারাঠা পেশােয়া পুত্র শাহুকে মুক্তি দেন । সাময়িকভাবে বিরােধের মীমাংসা করেন । কিন্তু ইংরেজ শক্তি কোনােভাবে মারাঠা গণের সঙ্গে মিত্রতা বা সৌভ্রাতৃত্ব বজায় রাখতে ইচ্ছুক ছিলেন না । বালাজী বিশ্বনাথ ছিলেন যথার্থ বিচক্ষণ । কূটনীতি এবং বাস্তবমুখী পরিবর্তন ঘটিয়ে তিনি উদ্ভূত পরিস্থতিকে সফলভাবেই মােকাবিলা করেন । উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও বিবদমান মারাঠা সর্দারদের সন্তুষ্ট করবার জন্য তিনি তাদের আর্থিক ক্ষমতা ও সুযােগ সুবিধা বৃদ্ধি করেন । তিনি চাইতেন যেকোনাে মূল্যে মারাঠা শক্তিকে একত্রিত করতে এবং ইংরেজ শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে । কিন্তু মারাঠা ঐতিহাসিক সরদেশাই সমালােচনা করে বলেন - “এই চুক্তি বালাজী বিশ্বনাথের অদূরদর্শিতার পরিচায়ক ।” আবার স্যার রিচার্ড টেমপল ইংরেজদের সঙ্গে বালাজীর হওয়া চুক্তিকে দূরদর্শিতা ও গভীর রাজনৈতিক পাণ্ডিত্যের পরিচায়ক বলেছেন । 

পেশােয়াতন্ত্রের অভ্যুত্থান মারাঠাদের শক্তি বৃদ্ধি করলেও ইংরেজদের সঙ্গে অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির ফলে কিছুটা পেশােয়া পিছিয়ে পড়েন । ১৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্যের নেতৃত্ব পেয়ে মারাঠা শক্তি ইংরেজ বিরােধিতা করলেও হিন্দু পাদ পাদশাহী আদর্শ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি । ওয়ার্নার চুক্তি ও পরবর্তীকালে পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পর নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ভবিষ্যত । স্বয়ং সরদেশাই মন্তব্য করেছিলেন , বিজয়ী আফগান নয় , কিংবা বিজিত মারাঠা নয় - এই যুদ্ধের জয়মাল্য পরিয়েছিলেন ইংরেজ কোম্পানির ভাগ্য লক্ষ্মীর গলায় । এই যুদ্ধের পর সর্বাত্মক বিপর্যয় কাটিয়ে পেশােয়াতন্ত্রের পক্ষে ভারতের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পথে সুনিশ্চিত বড় বাধা পেশােয়াতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে ইংরেজগণ । সেই সম্ভাবনাকে সুদৃঢ় করেছিল । এর পরবর্তী পর্যায়ে পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভ করে ইংরেজ শক্তি ভারতের রাজনৈতিক মাটিতে যে বীজ রােপন করেছিল , পেশােয়াতন্ত্রের সঙ্গে পানিপথের যুদ্ধে পেশােয়াশক্তির পরাজয় সেই বীজে বারি সিঞ্চন করেছিল বলে মন্তব্য করেন স্যার যদুনাথ সরকার । 


পেশােয়াতন্ত্রের অভ্যুত্থান মারাঠাদের শক্তি বৃদ্ধি করলেও তার প্রভাব ছিল সাময়িক এবং পরিণতিতে ক্ষতিকারক । রাজতন্ত্রের দুর্বলতা ইংরেজ সংঘর্ষে মারাঠা রাষ্ট্রসংঘে বিচ্ছিন্নতাবাদের জন্ম দিয়েছিল । শক্তিশালী মারাঠা পেশােয়ার কর্তৃত্ব অস্বীকার করে ইংরেজ বিরােধিতার সময়ে কিছু জায়গীরদার স্বাধীনতাকামী হয়ে ওঠে । বহু মারাঠা সর্দার নিজেদের পেশােয়ার সমতুল্য মনে করে কেন্দ্রিয় শক্তির ভিতটিকে ভেঙে দেন । সর্দারদের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও উচ্চাকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত মারাঠাদের পতন ডেকে আনে ।




বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কেন প্রবর্তিত হয়েছিল ?

Clg history questions answers কলেজ প্রশ্নোত্তর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত কেন প্রবর্তিত হয়েছিল chirosthaayi bondobosto keno probortito hoyechilo


উত্তর : অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে ভারতে শক্তি সুদৃঢ় করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দুই ধরনের নীতি অনুসরণ করেছিল । একদিকে যেমন সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করে সর্বভারতীয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হয় , অন্যদিকে শক্তি সুসংহত করার জন্য প্রশাসনিক কাঠামাে নির্মাণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয় । এই ক্ষেত্রে সবাপেক্ষা উল্লেখযােগ্য দিক হল নতুন ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থার প্রবর্তন । এরই একটি বিশেষ দিক হল চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত । 


১৭৭৬ খ্রিঃ জমি বন্দোবস্ত স্থায়ী ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশ নিয়ে লর্ড কর্ণওয়ালিশ ভারতে নতুন গভর্নর জেনারেল হয়ে এসেছিলেন । এরপর তিনি যে সমস্ত কারণে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করেন সেগুলি হল — 

প্রথমত । কর্ণওয়ালিশ ছিলেন ইংল্যান্ডের ভূস্বামী সম্প্রদায়ভুক্ত, তাই ভারতেও অনুরূপ জমিদার শ্রেণি গড়ে তুলতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আগ্রহী ছিলেন । 

দ্বিতীয়ত । ঐতিহাসিক ইরফান হাবিবের মতে , বিজয়ী ইংরেজদের মুনাফার উৎস ছিল ভূমিরাজস্ব , বাণিজ্য নয় । তাই রাজস্ব থেকে কোম্পানির আয়কে সুনিশ্চিত ও নিয়মিত করার দরকার ছিল । 

তৃতীয়ত । তাছাড়া , এক এক বছর এক এক রকম খাজনা আদায়ের প্রতিশ্রুতি আসত , ফলে বাৎসরিক নির্দিষ্ট আয় সম্বন্ধেও কোম্পানি নিশ্চিত হতে পারত না এবং এতে সুষ্ঠু বাজেট প্রস্তুত করা বিশেষ অসুবিধা হতাে । 

চতুর্থত : রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ।



চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন : সুতরাং ইংল্যান্ডের রাজস্ব ব্যবস্থা ও জমিদারি - সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লর্ড কর্ণওয়ালিশ প্রজা সাধারণের স্বার্থ উপেক্ষা করে জমিদারকেই জমির মালিক বলে ঘােষণা করার ব্যবস্থা করেন । তিনি স্থির নিশ্চিত ছিলেন যে, এই জমিদার শ্রেণি বিদেশি শাসকদের চির অনুগত একটা 



সম্প্রদায়ে পরিণত হবে । সুতরাং ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে তিনি জমিদারদের সঙ্গে দশ বছরের ভিত্তিতে বন্দোবস্ত করলেন এবং ডাইরেক্টর সভার অনুমােদন লাভ করলে এই দশ - সালা বন্দোবস্তই ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের বাংলা , বিহার ও উড়িষ্যার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত রূপে গৃহীত হয় । 


উপসংহার : ঐতিহাসিক ড . এন . কে সিংহ লর্ড কর্ণওয়ালিশকে ‘সীমিত অর্থে’ চিরস্থায়ী বন্দাবস্তের জনক বলে উল্লেখ করেছেন কেননা , চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের পরিকল্পনা অনেক আগেই উপস্থাপিত করা হয় । এই বিষয়ে ফিলিপ ফ্রান্সিসের নাম উল্লেখ করা যায় । তবে কর্ণওয়ালিসের উদ্যোগে এই ব্যবস্থা রূপায়িত হয় ।




বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

কৃষক সমাজের উপর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব আলােচনা কর ।

Clg history questions answers কলেজ প্রশ্নোত্তর কৃষক সমাজের উপর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব আলােচনা কর krishok somajer upor chirosthaayi bondoboster provab alochona koro


উত্তর : বাংলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে চিরস্থায়ী বন্দাবস্তের গুরুত্ব অপরিসীম । এই বন্দোবস্ত কোম্পানি , জমিদার ও কৃষক সমাজকে নানা ভাবে প্রভাবিত করে , যদিও এই প্রভাব সকলকে সমভাবে প্রভাবিত করেনি এবং সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রভাবের মাত্রাতেও পরিবর্তন ঘটেছে । 


বাংলার কৃষক শ্রেণির উপর চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রভাব : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলার রায়ত বা কৃষক সম্প্রদায় । জমির উপর জমিদারের মালিকানা স্বত্ব স্বীকৃত হলেও জমির উপর কৃষকের কোনাে মালিকানা স্বত্ব ছিল না । জমিদার প্রজাকে ইচ্ছে মতাে জমি থেকে উৎখাত করতে পারতেন এবং প্রজার অস্তিত্ব সম্পূর্ণভাবে জমিদারের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল ছিল । এম . জে বিভিরাজি বলেন যে , প্রজাদের স্বার্থ উপেক্ষা করে কেবলমাত্র জমিদারদের সঙ্গে চুক্তি করা হয় — এটা একটা ভ্রান্তি ও চরম অন্যায় । 

‘মহাজন’ শ্রেণির আবির্ভাব : চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে পত্তনি প্রথা ও বিভিন্ন মধ্যস্বত্বের উদ্ভব হয়, যার ফলে প্রজা- জমিদার সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে । জমিদাররা শহরে বাস করায় তাদের সঙ্গে প্রজাদের কোনাে সম্পর্ক ছিল না । নায়েব - গােমস্তা ও পত্তনিদারদের অত্যাচারে তাদের অবস্থা শােচনীয় হয়ে ওঠে । আগে প্রয়ােজনে প্রজারা ‘তকাভি’ ঋণ পেত কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতি ‘মহাজন’ সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটে । 


প্রজাদের অধিকার অরক্ষিত : কর্ণওয়ালিশ আশা করেছিলেন যে , তিনি যেমন জমিদারদের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছেন সেইরকম জমিদাররাও প্রজাদের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে তাদের পাট্টা দেবেন । যাতে জমিদার ও প্রজার অধিকার ও দায়িত্ব লিপিবদ্ধ থাকবে । জমিদাররা এধরনের কোনাে পাট্টা দেননি এবং প্রজারাও এ ব্যাপারে যথেষ্টই অনাগ্রহী ছিল । এর ফলে রায়তদের অধিকার অরক্ষিতই থাকে । সিটনকার বলেন যে, “চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের স্বার্থরক্ষা করে , প্রজা স্বার্থ রহিত করে এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিসর্জন দেয় ।” ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানির পরিচালক সভা লিখেছেন— “চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত যাদের সঙ্গে হয়েছিল তাদের সত্যিকারের ভূস্বামী বলে ধরে নেওয়ার ফলেই অন্যান্যদের অধিকার ও স্বার্থ প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ।