মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২২

গুপ্তোত্তর যুগে উত্তর ভারত অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Clg history questions answers কলেজ ইতিহাস গুপ্তোত্তর যুগে উত্তর ভারত অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর guptputtor juge uttar bharat


প্রশ্ন । মৌখরীদের রাজধানী কোথায় ছিল ? 

উত্তর : মৌখরীদের রাজধানী ছিল কান্থকুজ বা কনৌজ । 

প্রশ্ন । মৌখরী রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ?  

উত্তর : পরবর্তী গুপ্তরাজাদের পরাজিত করে ঈশানবর্মণ মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেন । 

প্রশ্ন । মৌখরীবংশের রাজাদের নাম কি কি ছিল ? 

উত্তর : মৌখরীবংশের রাজারা হলেন হরিবর্মন , আদিত্যবর্মন , ইশানবর্মন , সুবর্ণবমর্ন , অবন্তীবর্মন ও গ্রহবর্মন । গ্রহবর্মন ছিলেন এই বংশের শেষরাজা ।তিনি পুষ্যভুতিরাজ প্রভাকরবর্ধনের কন্যা রাজ্যশ্রীকে বিবাহ করেন । সম্ভবত ৬০৫ খ্রিস্টাব্দে মালবরাজ দেবগুপ্তের নিকট তিনি যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত হন । 


প্রশ্ন । গুপ্তযুগে যে হুনরাজা ভারত আক্রমণ করেন তাঁর নাম কি ? 

উত্তর : গুপ্তযুগে যে হুনরাজা ভারত আক্রমণ করেন তাঁর নাম হল তােরমান । 

প্রশ্ন । হর্ষবর্ধন কোন রাজ্যের রাজা ছিলেন ? তাঁর সঙ্গে কনৌজের কি সম্পর্ক ছিল ? 

উত্তর : হর্ষবর্ধন ছিলেন থানেশ্বরের রাজা ।কনৌজরাজ গ্রহবর্মন ছিলেন তাঁর ভগ্নী রাজ্যশ্রীর স্বামী । মালবরাজ দেবগুপ্তের সঙ্গে যুদ্ধে গ্রহবর্মনের মৃত্যু হলে প্রজাদের আমন্ত্রণে হর্ষবর্ধন কনৌজের সিংহাসনের দায়িত্বও গ্রহণ করেন । 


প্রশ্ন । ভাস্করবর্মন কে ছিলেন ? তাঁর সঙ্গে হর্ষবর্ধনের কিরূপ সম্পর্ক ছিল ? 

উত্তর : ভাস্করবর্মন ছিলেন কামরূপের রাজা । হর্ষবর্ধন তাঁর সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করে গৌড়াধিপতি শশাঙ্কের বিরুদ্ধে একযােগে অগ্রসর হন । 


প্রশ্ন । হর্ষবর্ধন কোন বাঙ্গালী রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন ? এই যুদ্ধে হর্ষবর্ধন কোন কোন রাজার সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করে ছিলেন ? 

উত্তর : হর্ষবর্ধন গৌড়রাজ শশাঙ্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন । তিনি এই উদ্দেশ্যে কামরুপরাজ ভাস্করবর্মন এবং মগধরাজ মাধবগুপ্তের সঙ্গে মৈত্রি স্থাপন করেছিলেন । 


প্রশ্ন । রাষ্ট্রকূটদের শ্রেষ্ঠ শিল্প নিদর্শন কি ? 

উত্তর : ইলােরার বিখ্যাত কৈলাস মন্দির রাষ্ট্রকূটবংশের সর্বশ্রেষ্ট শিল্পকীর্তি । এই বিখ্যাত শিল্প মন্দির , রাষ্ট্রকূটরাজ প্রথম কৃষ্ণের রাজত্বকালে নির্মিত হয় । প্রস্তর স্থাপত্যে কৈলাসনাথ মন্দির পৃথিবীতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ।


প্রশ্ন । ইলােরা ভারতের ইতিহাসে বিখ্যাত কেন ?  

উত্তর : ইলােরা বর্তমান মহারাষ্ট্রে অবস্থিত । রাষ্ট্রকূট রাজাদের আমলের প্রস্তর নির্মিত শিল্পের জন্য ইলােরা বিখ্যাত । রাষ্ট্রকূটরাজ প্রথম কৃষ্ণের আমলে তৈরি কৈলাস মন্দির ছাড়াও আরও কয়েকটি হিন্দুদের দেবীর মন্দির এবং কয়েকটি বৌদ্ধ চৈত্য সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে । 


প্রশ্ন ৷ রাজা শশাঙ্ক সম্বন্ধে কি জান ? 

উত্তর : সপ্তম শতাব্দীর প্রথমভাগে শ্রীমহাসামন্ত শশাঙ্ক গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন । বাঙ্গালী রাজাদের মধ্যে শশাঙ্কই ছিলেন প্রথম স্বাধীন নরপতি । উত্তরভারতের ইতিহাসেও শশাঙ্ক এক গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ করেন । শশাঙ্ক শক্তিশালী রাজা ছিলেন । শশাঙ্কের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কনৌজ ও থানেশ্বরের রাজা হর্ষবর্ধন । তা সত্ত্বেও বঙ্গদেশ ও ওড়িষ্যার কিছু অংশ দক্ষিণবিহার বারানসী প্রভৃতি অঞ্চল শশাঙ্কের অধীন ছিল । শশাঙ্কই বাঙ্গালীর প্রথম সাম্রাজ্য স্থাপন করেন । কর্ণসুবর্ণ (বর্তমান কানাসােনা ) তাঁর রাজধানী ছিল । বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার রাজার ঢিবি নামক অঞ্চলে প্রাপ্ত ধ্বংশাবশেষকে প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ নগরী মনে করা হয় । সম্ভবত ৬০৪ থেকে ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক রাজত্ব করেন । 

প্রশ্ন । পালবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন ? 

উত্তর : পালবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন গােপাল । 

প্রশ্ন । গােপাল প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ কেন পালবংশ নামে পরিচিত ?  

উত্তর : ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে গােপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত রাজবংশের আঠারাে জন রাজার প্রত্যেকের নামই ‘পাল’ শব্দটির দ্বারা শেষ হয় । সেজন্য এই রাজবংশ পালরাজবংশ নামে পরিচিত । ১১৫৯ খ্রিস্টাব্দে এই রাজবংশের অবসান ঘটে । 

প্রশ্ন । বাংলার পালরাজারা কোন ধর্মের পৃষ্ঠপােষক ছিলেন ? 

উত্তর : বাংলার পালরাজারা বৌদ্ধধর্মের পৃষ্ঠপােষক ছিলেন । 

প্রশ্ন । প্রাচীন বাংলার দুটি বন্দরের নাম লিখ । 

উত্তর : প্রাচীন বাংলার দুটি বন্দর হল তাম্রলিপ্ত ও সপ্তগ্রাম । 


প্রশ্ন । কোন পালরাজা পাটলিপুত্র থেকে মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন ?  

উত্তর : রাজা দেবপাল পাটলিপুত্র থেকে মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন ।

প্রশ্ন । সেনবংশীয় কয়েকজন রাজার নাম লিখ । 

উত্তর : সেনবংশীয় রাজারা হলেন বিজয়সেন , বল্লালসেন, লক্ষণসেন প্রভৃতি । 

প্রশ্ন । কোন কোন কবি রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন ?  

উত্তর : লক্ষণসেনের রাজসভা ধােয়ী , উমাপতিধর , গােবর্ধন , সারন ও জয়দেব ।




সোমবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২২

গুপ্তোত্তর যুগে দক্ষিণ ভারত অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Clg history questions answers কলেজ ইতিহাস গুপ্তোত্তর যুগে দক্ষিণ ভারত অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর guptputtor juge dokkhin bharat


প্রশ্ন । পল্লব রাজবংশ কে প্রতিষ্ঠা করেন ? 

উত্তর : পল্লবরাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন শিবস্কন্দবর্মন । 

প্রশ্ন । পল্লব রাজ্যের রাজধানী কোথায় ছিল ? এই বংশের শ্রেষ্ঠরাজা কে ? 

উত্তর : পল্লব রাজ্যের রাজধানী ছিল কাঞ্জী বা কাণ্ডীনগর । পল্লব বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলেন প্রথম নরসিংহবর্মন । 

প্রশ্ন । পল্লবরাজবংশের স্থাপত্য ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপােষকতা সম্বন্ধে কি জান ?

উত্তর : কাঞ্জীর পল্লবরাজগণের পৃষ্ঠপােষকতায় স্থাপত্য , ভাস্কর্য ও চিত্রকলা বিশেষ উন্নতিলাভ করে । কাঞীর কৈলাসনাথের মন্দির ঐরাবতেশ্বরের মন্দির এবং মামল্লপুরম অথবা মহাবলীপুরমের রথ মন্দিরগুলাে পল্লব শিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন । পল্লবরাজগণ স্থাপত্য , ভাস্কর্য , চিত্রকলা প্রভৃতি ছাড়া ও সাহিত্য এবং সংস্কৃতির পৃষ্ঠপােষক ছিলেন । কিরাতাজুনীয়ম রচয়িতা ভারবি এবং দশকুমার চরিত্র রচয়িতা দণ্ডিন পল্লব রাজাদের পৃষ্ঠপােষকতা লাভ করেন । ‘বিচিত্র চিত্ত’ নামে পরিচিত পল্লবরাজ প্রথম মহেন্দ্রবর্মন ‘খণ্ড বিলাস’ প্রহসন রচনা করেন । 

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম অধ্যক্ষ ধর্মপাল কাঞ্জীর অধিবাসী ছিলেন । 

প্রশ্ন । পল্লবরাজবংশের কয়েকজন রাজার নাম লিখ ।  

উত্তর : শিবস্কন্দবর্মন , বিষ্ণুগােপ , প্রথম মহেন্দ্রবর্মন , প্রথম নরসিংহবর্মন , দ্বিতীয় মহেন্দ্রবর্মন , প্রথম পরমেশ্বরবর্মন , দ্বিতীয় নরসিংহবর্মন , দ্বিতীয় পরমেশ্বরবর্মন , তৃতীয় মহেন্দ্রবর্মন , প্রথম নন্দীবর্মন , দত্তিবর্মন , দ্বিতীয় নন্দীবর্মন, অপরাজিতবর্মন প্রভৃতি । 

প্রশ্ন । কোন চোলরাজ বাংলাদেশ আক্রমণ করেন ? তখন বাংলায় কে রাজত্ব করতেন ? 

উত্তর : একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে চোলরাজ রাজেন্দ্র চোল বাংলাদেশ আক্রমণ করেন । তখন বাংলাদেশে রাজত্ব করতেন পালবংশীয় রাজা দ্বিতীয় মহীপাল । 

প্রশ্ন । চোলরাজবংশের প্রধান দুজন রাজার নাম লিখ । 

উত্তর : চোলরাজবংশের প্রধান দুজন রাজা হলেন প্রথম রাজরাজ চোল এবং প্রথম রাজেন্দ্র চোলদেব । 

প্রশ্ন । চোলরাজবংশের সমুদ্রপথে সাম্রাজ্য বিস্তার সম্বন্ধে কি জান ?

উত্তর : প্রাচীন তামিল সাহিত্য থেকে চোলদের সমুদ্রপথে ব্যবসাবাণিজ্য বিস্তারের কাহিনী জানা যায় । শক্তিশালী নৌবাহিনীর সাহায্যে চোলগণ ব্ৰত্মদেশ , শ্রীলঙ্কা , ভারত মহাসাগরের অন্যান্য দ্বীপসমূহ এবং মালয় উপদ্বীপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপন করে । কাবেরী নদীর মােহনায় অবস্থিত কাবেরীপত্তনম ছিল চোল সাম্রাজ্যের সর্ববৃহৎ বাণিজ্য বন্দর । বাণিজ্যতরী ও বাণিজ্যপথের নিরপত্তার জন্য চোলরাজগণ এক শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরি করেন । চোলদের সামুদ্রিক সাম্রাজ্যের পত্তন করেন । মালদ্বীপ , লাক্ষাদ্বীপ সহ ভারত মহাসাগরের বহু দ্বীপের ওপর তিনি কর্তৃত্ব স্থাপন করেন । সিংহলের উত্তরাংশও তিনি জয় করেন ।


প্রশ্ন । চোল শাসনব্যবস্থার রাজ্যকে কি কি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল ?

উত্তর : চোলদের সমগ্র রাজ্যকে বলা হত ‘চোল মণ্ডলম’ । সমগ্র রাজ্যটি মণ্ডল বা প্রদেশে বিভক্ত ছিল । বিভাগ গুলােকে বলা হত ‘কোট্টাম’ । প্রতিটি কোট্টাম কয়েকটি নাড়ু বা জেলায় বিভক্ত ছিল । জেলাগুলাে ‘কুররম’ বা গ্রামে বিভক্ত ছিল । 



রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

সিন্ধু সভ্যতা অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Clg history questions answers কলেজ ইতিহাস সিন্ধু সভ্যতা অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর sindhu sovyota


প্রশ্ন । ভারতের ইতিহাসে সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কারের গুরুত্ব কি ? এই সভ্যতার সমসাময়িক কয়েকটি সভ্যতার নাম লিখ । 

উত্তর : সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার ভারতীয় সভ্যতার বিকাশ ও অগ্রগতির ইতিহাস উদ্বাটনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা । এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ধারণা ছিল যে ভারতীয় সভ্যতার ইতিহাস বৈদিক যুগ থেকে শুরু । কিন্তু সিন্ধু সভ্যতা যে প্রাক্ বৈদিক সভ্যতা আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে ভারতীয় সভ্যতা বিকাশের কাল আরও অনেক বেশি বলে প্রমাণিত হয় ।

ভারতের প্রাচীনতম এই সভ্যতা সুমেরীয় , ব্যাবিলনীয় মিশরীয় প্রভৃতি সভ্যতার সমসাময়িক বলে স্বীকৃত হয়েছে । 


প্রশ্ন । সিন্ধুসভ্যতার বিস্তৃতি সম্বন্ধে কি জান ? 

উত্তর : সিন্ধুসভ্যতা এক বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ছিল । এই সভ্যতা সিন্ধু ,পাঞ্জাব , বালুচিস্তান, রাজস্থান , গুজরাট সৌরাষ্ট্র ও নর্মদা উপত্যকার এক বিরাট অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল । উত্তরে জম্মু থেকে দক্ষিণে নর্মদা উপত্যকা এবং পশ্চিমে বালুচিস্তানের মাকরান থেকে পূর্বে মীরাট পর্যন্ত এর ব্যাপ্তি ছিল । এই সভ্যতার দুটি প্রধান কেন্দ্র ছিল মহেঞ্জোদরাে ও হরপ্পা । 


প্রশ্ন । সিন্ধুসভ্যতার বিকাশের কাল সম্বন্ধে কি জান ? 

উত্তর : কোন লিখিত তথ্যের অভাবের জন্য প্রত্নতত্ত্ববিদগণ ঐ যুগে ব্যবহার দ্রব্যসামগ্রীর ওপর ভিত্তি করে সময়কাল নির্ধারণ করেন । বর্তমান ‘কার্বন-১৪’ পদ্ধতির সাহায্যে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে সময়কাল নির্ধারণের প্রয়াস দেখা যায় । আনুমানিক ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত হরপ্পা সভ্যতার কালসীমার ব্যপ্তি ধরা হয় ।


প্রশ্ন । হরপ্পাসংস্কৃতি ও বৈদিক সংস্কৃতির কোনটি গ্রামীণ এবং কোনটি নাগরিক ?

উত্তর : হরপ্পা সংস্কৃতি নাগরিক এবং বৈদিক সংস্কৃতি গ্রামীণ । 


প্রশ্ন : সিন্ধুসভ্যতার আবিষ্কারক দুজন প্রত্নতত্ত্ববিদের নাম উল্লেখ কর । 

উত্তর : ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে দয়ারাম সাহানী হরপ্পার এবং ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে রাখালদাস বন্দোপাধ্যায় মহেঞ্জোদারাের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন । এই সময় ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধিকর্তা ছিলেন স্যার জন মার্শাল । 


প্রশ্ন । ভারতের প্রাচীনতম সভ্যতার দুটি কেন্দ্রের নাম লিখ । 

উত্তর : ভারতের প্রাচীনতম সভ্যতার দুটি কেন্দ্রের নাম হল মহেঞ্জোদারাে ও হরপ্পা । বর্তমান পাকিস্তানের অন্তর্গত সিন্ধুপ্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারাে এবং পাঞ্জাবের মন্টোগােমারি জেলার হরপ্পায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে ভারতের প্রাচীনতম সভ্যতা অর্থাৎ সিন্ধুসভ্যতার আমলের দুটি নগরীর ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে ।  


প্রশ্ন । সিন্ধু সভ্যতাকে কেন হরপ্পা সভ্যতা বলা হয় ? 

উত্তর : সিন্ধু অঞলে প্রাপ্ত সভ্যতা ও সংস্কৃতির সকল বৈশিষ্ট্যই হরপ্পা অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে । সেজন্য এই সভ্যতাকে হরপ্পা সভ্যতাও বলা হয় ।  


প্রশ্ন । সিন্ধু অঞ্চলে নাগরিক জীবনের কি কি নিদর্শন দেখা যায় ?

উত্তর : সিন্ধু অঞ্চলে ভারতের প্রথম নাগরিক সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল । এই সভ্যতার বৈশিষ্ট্যগুলাে বিশেষভাবে লক্ষণীয় । প্রশস্ত ও পরিকল্পিত রাজপথের সঙ্গে অপরিসর গলি , তিনতলা পর্যন্ত বাড়ি তৈরির ব্যাপারে আগুনে পােড়া ইটের ব্যবহার, জল ও আবর্জনা নিষ্কাশনের জন্য উন্নত পয়প্রণালী ব্যবস্থা এবং বৃহৎ স্নানাগার প্রভৃতি উন্নতনাগরিক জীবনের পরিচয় দেয় । 

প্রশ্ন । সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংসের কারণগুলাে কি ?

উত্তর : সিন্ধুসভ্যতা ধ্বংসের কারণ সম্পর্কে পণ্ডিত মহলে মতভেদ দেখা যায় । পণ্ডিতের মতে সিন্ধু অঞলের বনসম্পদের বিনাশ , বৃষ্টিপাতের স্বল্পতায় ঐ অঞলের মরুভূমিতে পরিণত হওয়া , নাগরিক জীবনের অবহেলা , সিন্ধুনদের বন্যা ও আর্যদের আক্রমণ সিন্ধুসভ্যতার ধ্বংসের কারণরূপে দেখা দেয় । 

সংক্ষেপে বলা যায় যে , বৃষ্টিপাতের স্বল্পতা ও সিন্ধু নদের বন্যা সিন্ধু সভ্যতার পক্ষে সঙ্কটের কারণরূপে দেখা দেয় । পরে আর্যদের আক্রমণের ফলে এই সভ্যতা ধ্বংস হয় । 

প্রশ্ন । সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন কোথায় কোথায় আবিষ্কৃত হয়েছে ?  

উত্তর : মহেঞ্জোদারাে ও হরপ্পা ছাড়াও আরব সাগরের তীরে অবস্থিত সুৎকাজেনদোর , বালুচিস্তান , রুপার , ভাওয়ালপুর , বিকানীর প্রভৃতি স্থানে আবিষ্কৃত হয়েছে । তাছাড়া বক্সার, পাটনা , গাজীপুর , বেনারস প্রভৃতি স্থানেও সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে ।


শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২২

আর্যজাতির ভারতে আগমন : বৈদিক সভ্যতা অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Clg history questions answers কলেজ ইতিহাস প্রশ্নোত্তর আর্যজাতির ভারতে আগমন  বৈদিক সভ্যতা অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর arjojatir bharate agomon boidik sovyota

প্রশ্ন । আর্যদের আদি বাসস্থান কোথায় ছিল ? ভারতে প্রবেশ করে কোথায় তারা প্রথম বসতি স্থাপন করে ।

উত্তর : সম্ভবত যিশু খ্রিস্টের জন্মের দেড়হাজার বছর পূর্বে আর্যগণ ভারতে প্রবেশ করে । আর্যদের পূর্ব বাসস্থান সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে । মধ্য এশিয়া , উত্তর মেরুপ্রদেশ দক্ষিণ রাশিয়া প্রভৃতি অঞল তাদের আদি বাসস্থান বলে অনুমান করা হয় । কিন্তু পশ্চিম এশিয়ায় আর্যগণ যে প্রাচীনকালে বাস করত তার কিছু কিছু নিদর্শন তখনও দেখতে পাওয়া যায় । পরবর্তীকালে বংশবৃদ্ধি , গৃহপালিত পশুর খাদ্যাভাব ও নিজেদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ দেখা দিলে তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে ইয়ােরােপের বিভিন্ন অঞ্চল এবং পারস্য ও ভারতে প্রবেশ করে । ভারতে প্রবেশ করে তারা সপ্তসিন্ধু অঞলে অর্থাৎ সিন্ধু নদ এবং তার শাখানদীদের দ্বারা বিধৌত অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে । 



প্রশ্ন । সপ্তসিন্ধু কাকে বলে ? 

উত্তর : আর্যরা ভারতে প্রবেশ করে প্রথমে সিন্ধুনদের উপত্যকা অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে । বৈদিক সাহিত্যে এই অঞ্চল ‘সপ্তসিন্ধু’ বা ‘সপ্তসিন্ধব’ অর্থাৎ সাতটা নদীর অঞ্চল বলে উল্লিখিত আছে । এই নদীগুলাে হল বিতস্তা , চন্দ্রভাগা , ইরাবতী , বিপাশা , শতদ্রু , সরস্বতী ও সিন্ধু । 


প্রশ্ন । চতুরাশ্রম কি ? 

উত্তর : আর্যদের সামাজিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল চতুরাশ্রম । এই চারটি আশ্রমের নাম ব্ৰত্মচর্য, , বাণপ্রস্থ ও সন্ন্যাস । ব্ৰত্মচর্য আশ্রমে ব্রাত্মণ , ক্ষত্রিয় ও বৈশ্যরা বাল্যকালে গার্হস্থ্য গুরুগৃহে বাস করে ব্রক্ষ্মচর্য পালনের সঙ্গে সঙ্গে শাস্ত্রশিক্ষা করত । শাস্ত্রশিক্ষা শেষ হলে জীবনের দ্বিতীয় গার্হস্থ্য আশ্রম শুরু হত । তারপর বিবাহাদি করে আদর্শভাবে সংসার জীবন যাপন করতে হত । বাণপ্রস্থ আশ্রমের সময় তারা সংসার ত্যাগ করে তপস্বীর জীবন যাপন করত । সন্ন্যাস আশ্রমে তারা সংসারের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে একমাত্র মুক্তির অপেক্ষায় জীবনের বাকি দিনগুলাে কাটাত । 


প্রশ্ন । আর্যধর্মের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ কর । 

উত্তর : আর্যদের ধর্মের প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হল — বহুদেব -দেবীর উপাসনা প্রচলিত থাকলেও মূলত আর্যগণ ঈশ্বর এক এই ধারণায় বিশ্বাস করত এবং বৈদিক যুগের প্রথম দিকে মূর্তিপূজা প্রচলিত ছিল না । অগ্নি জ্বেলে দেবতাদের উদ্দেশ্যে মৃত , সােমরস প্রভৃতি আহুতি দিয়ে যজ্ঞ করা এবং দেবতাদের উদ্দেশ্যে শুধু স্তোত্র পাঠ করাই ছিল তাদের উপাসনার পদ্ধতি । 



প্রশ্ন । আর্যদের প্রাচীন সাহিত্য সম্পর্কে কি জান ? 

উত্তর : আর্যদের প্রাচীনতম সাহিত্য ও ধর্মগ্রন্থ বেদ । বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান । আর্যগণ বেদকে ঈশ্বরের বাণী বলে মনে করতেন । বেদ প্রথম দিকে লিপিবদ্ধ হয়নি — তা মুখে প্রচলিত ছিল । এজন্য বেদের অপর নাম শুতি । বেদ চারিভাগে বিভক্ত, যথা — ঋক , সাম , যজু ও অথর্ব । ঋকবেদ মন্ত্রপ্রধান সামবেদ সঙ্গীত প্রধান , যজু বেদে যজ্ঞানুষ্ঠানের রীতিনীতি এবং অথর্ববেদে সৃষ্টি রহস্য , চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্বন্ধে আলােচনা করা হয়েছে । প্রতিটি বেদের আবার চারিটি ভাগ — সংহিতা , ব্রাত্মণ , আরণ্যক ও উপনিষদ । সংহিতায় যাগযজ্ঞের মন্ত্রতন্ত্র , ব্ৰাত্মণেযাগ যজ্ঞের নিয়ম - কানুন, আরণ্যকে সন্ন্যাস ধর্মের ও উপনিষদে গভীর দার্শনিক তত্ত্বের আলােচনা পাওয়া  যায় । উপনিষদ বৈদিক সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনা । উপনিষদকে বেদান্তও বলা হয় । 


প্রশ্ন । বিশপতি কে ? 

উত্তর : বৈদিক যুগে কয়েকটি গ্রামের সমন্বয়ে একটি ‘বিশ’ বা ‘জন’ গঠিত হত । ‘বিশ’ বা ‘জন’- এর সর্বোচ্চশাসক ছিলেন ‘বিশপতি’ বা ‘রাজন’ অর্থাৎ রাজা ।

     
প্রশ্ন । নিষ্ক কাকে বলে ? 

উত্তর : বৈদিক যুগের প্রচলিত স্বর্ণমুদ্রার নাম ছিল নিষ্ক । 


প্রশ্ন । বৈদিক যুগে ‘সভা’ ও ‘সমিতির’ কাজ কি ছিল ? 

উত্তর : বৈদিক যুগে রাজাকে শাসনকার্যে সাহায্যে করা ও পরামর্শ দানের জন্য যে দুটি জন প্রতিনিধিমূলক সংস্থা গড়ে ওঠে তার একটির নাম ‘সভা’ অপরটির নাম ‘সমিতি’ । রাজ্যের বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে সভা এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সমিতি গঠিত হত । 


প্রশ্ন । সর্বাপেক্ষাপ্রাচীনবেদের নাম কি ? 

উত্তর : প্রাচীনতম বেদের নাম ঋকবেদ । 



প্রশ্ন । ঋকবেদের যুগে রাজার ক্ষমতা ও দায়িত্ব কি ছিল ?  

উত্তর : বৈদিক যুগে প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব থাকলেও আর্যদের মধ্যে প্রধাণত রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রচলিত ছিল । রাজপদ সাধারণত বংশানুক্রমিক ছিল তবে কোন কোন ক্ষেত্রে প্রজাবর্গ কতৃক রাজা নির্বাচিত হতেন । রাজা দৈবস্বত্বের অধিকারী ছিলেন না । তাঁর স্বৈরাচারী হওয়ারও কোন সুযােগ ছিল না । ‘সভা’ ও ‘সমিতি’ নামে দুটি জনপ্রতিনিধি মূলক সভার সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁকে তা করতে হত । বহিঃশত্রুর হাত থেকে রাজ্যকে রক্ষা করা , প্রয়ােজনে যুদ্ধ পরিচালনা করা , রাজ্যের মধ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা , বিচারকার্য পরিচালনা প্রভৃতি রাজার প্রধান দায়িত্ব বলে বিবেচিত হত । 



প্রশ্ন । ঋকবেদের যুগের দুটি প্রতিনিধি সভার নাম কর । 

উত্তর : ঋকবৈদিক যুগে রাজাকে শাসনকার্য পরিচালনার সাহায্য করার জন্য সভা ও সমিতি নামে দুটি জনপ্রতিনিধি মূলক সভার সাহায্য গ্রহণ করতে হত । রাজ্যের বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে সভা গঠিত হত এবং সমিতি গঠিত হত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে । সাধারণত জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজাকে এই দুটি জনপ্রতিনিধি সভার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হত । এই ভাবে রাজার স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করা হত । তবে পরবর্তী কালে রাজ্যগুলাের আয়তন বৃদ্ধির ফলে এই সংস্থা দুটির গুরুত্ব হ্রাস পায় । 


প্রশ্ন । ঋকবৈদিক যুগে নারীর সামাজিক মর্যাদা কিরুপ ছিল ?

উত্তর : ঋকবৈদিক যুগে আর্যরা পুত্রসন্তানের জন্ম কামনা করলেও সমাজে নারী বিশেষ মর্যাদার অধিকারিনী ছিলেন । তাঁরা ছিলেন গৃহের সর্বময়কত্রী ও যথার্থ অর্থেই পুরুষের সহধর্মিনী । পণপ্রথা সে যুগে প্রচলিত ছিল না । বয়ঃপ্রাপ্ত ও পুরুষ নারী সাধারণত পরস্পরকে মনােনীত করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেন । বিধবা নারীর পূণর্বিবাহের অধিকার ছিল । অনেক ক্ষেত্রে পাত্রপক্ষকে কন্যাপণ দিতে হত । 



প্রশ্ন । পরবর্তী বৈদিক যুগে রাজার ক্ষমতাও দায়িত্বের ক্ষেত্রে কি কি পরিবর্তন ঘটে ? 

উত্তর : পরবর্তী বৈদিক যুগে বৃহদায়তন রাজ্যের উৎপত্তি হওয়ায় রাজার ক্ষমতা মর্যাদা এবং প্রতিপত্তি যথেষ্ঠ বৃদ্ধি পায় । ‘রাজন’ উপাধির পরিবর্তে রাজারা একরাট , বিরাট , সম্রাট সার্বভৌম প্রভৃতি উপাধি গ্রহণ করতে থাকেন । এই যুগে ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতায় বিশ্বাসী রাজতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে এবং প্রচার করা হতে থাকে যে রাজাই সর্বেসর্বা এবং সকল ক্ষমতার উৎস স্বরুপ । তিনি অভ্রান্ত এবং সকল শক্তির ঊর্ধ্বে । রাজশক্তির নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘সভা’ ও সমিতি তাদের পূর্বেকার ক্ষমতা অনেকাংশে হারিয়ে ফেলে । তবে পূর্ববর্তী যুগের মতাে এই যুগেও রাজ্যরক্ষা প্রজাপালন , শাসন , পরিচালনা ও যুদ্ধপরিচালনার দায়িত্ব রাজাকেই পালন করতে হত ।

 
প্রশ্ন । বৈদিক যুগে ক্ষেত্রে রচনা করতেন এমন চারজন নারীর নাম কর ।

উত্তর : বিশ্ববারা, লােপামুদ্রা, পৌলমী , ঘােষা প্রভৃতি বিদুষী নারীরা বেদের স্তোত্র রচনা করতেন । 

প্রশ্ন । বৈদিক যুগের পরিবারের প্রধানকে কি বলা হত ? 

উত্তর : বৈদিক যুগে পরিবারের প্রধানকে গৃহপতি বা দম্পতি বলা হত । 


প্রশ্ন । দাস এবং দস্যু কাদের বলা হত ? 

উত্তর : আর্যদের ভারতে প্রবেশ করার পূর্বে অনার্যজাতির যে সব যে সব লােক ভারতে বাস করত তাদের দাস ও দস্যু নামে অভিহিত করা হত । 





শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০২২

গুপ্তরাজবংশ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Clg history questions answers কলেজ ইতিহাস গুপ্তরাজবংশ অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর guptorajbongsho


প্রশ্ন । গুপ্তরাজবংশের আদি বাসস্থান কোথায় ছিল ? 

উত্তর : গুপ্তরাজবংশের আদি বাসস্থান সম্পর্কে মতভেদ আছে । কে.পি. জয়সােয়াল এর মতে প্রয়াগ বা এলাহাবাদ গুপ্তদের আদি বাসস্থান ছিল । ডি , অ্যালান -এর মতে মগধেই গুপ্তদের আদি বাসস্থান ছিল । কারণ এই অঞলে গুপ্তদের অনেক মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে । ইৎ সিং - এর বিবরণ অনুসারে মুর্শিদাবাদবা মালদহে ছিল গুপ্তদের আদিনিবাস । আবার গয়ালের মতে উত্তরপ্রদেশই ছিল গুপ্তদের আদি বাসস্থান । গুপ্তদের আদিবাসস্থান সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে এইরূপ মতবিরােধ থাকার জন্য এই সম্পর্কে নির্দিষ্টভাবে কিছু বলা যায় না । 


প্রশ্ন । গুপ্ত রাজবংশ কে প্রতিষ্ঠা করেন ? তার মৃত্যুর পর কে মগধের সিংহাসনে বসেন ? 

উত্তর : গুপ্ত সাম্রাজ্যে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীগুপ্ত । তার পর সিংহাসনে বলেন শ্রীঘটোৎকচগুপ্ত । শ্রীঘটোৎকচগুপ্ত ‘মহারাজ’ উপাধি গ্রহণ করেন । 

প্রশ্ন ৷ গুপ্তবংশের প্রথম স্বাধীন রাজা কে ?

উত্তর : গুপ্তবংশের প্রথম স্বাধীন রাজা ছিলেন শ্রীঘটোৎকচগুপ্তের পুত্র প্রথম চন্দ্রগুপ্ত । ৩২০ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরােহন করেন এবং মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেন । তিনি লিছবি রাজকন্যা কুমারদেবীকে বিবাহ করে স্থীয় বংশের মর্যাদাও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করেছিলেন । বৈবাহিক সম্বন্ধের মাধ্যমে এবং রাজ্যজয়ের নীতির দ্বারা তিনি ত্রিহৃত, এলাহাবাদ , অযােধ্যা ও দক্ষিণবিহার পর্যন্ত রাজ্যবিস্তার করেন । 

প্রশ্ন । কোন গুপ্তসম্রাট অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পাদন করেন ? কোন ঐতিহাসিক তথ্য থেকে তা জানা যায় ? 

উত্তর : সম্রাট সমুদ্র গুপ্ত অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পাদন করেন । সমুদ্রগুপ্ত প্রচারিত স্বর্ণমুদ্রা থেকে এই তথ্য জানা যায় । 

প্রশ্ন । কোন্ গুপ্তসম্রাট লিছবি রাজকন্যাকে বিবাহ করেন ? 

উত্তর : গুপ্তবংশীয় সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্ত লিচ্ছবি রাজকন্যা কুমারদেবীকে বিবাহ করেন ।


প্রশ্ন । কোন্ গুপ্তসম্রাট ‘শকারি’ উপাধি গ্রহণ করেন ? কেন তিনি এই উপাধি গ্রহন করেন ? 

উত্তর : গুপ্তসম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য উপাধি গ্রহণ করেছিলেন । তিনি পশ্চিম ভারতের শকদের পরাজিত করে ঐ অঞল নিজের সাম্রাজ্যভুক্ত করেন এবং ‘শকারি’ উপাধি গ্রহণ করেন । 

প্রশ্ন । অজন্তা কোথায় ? এই স্থান কেন বিখ্যাত ? 

উত্তর : অজন্তা বর্তমান মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গবাদের নিকট বৌদ্ধ চৈত্যগুহা । এখানে দেওয়ালে অঙ্কিত চিত্রসমূহ প্রাচীন ভারতের শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন । অনুমান করা হয় যে উত্তর ভারতের গুপ্তরাজবংশের এবং মধ্যভারতের বকাটকদের রাজত্বকালে এই চিত্রগুলাে অঙ্কিত হয় । 



প্রশ্ন । যশোধর্মন কে ছিলেন ?

উত্তর : মধ্য ভারতের মান্দাসাের ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি করদ রাজ্য । কিন্তু গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযােগে যশােধর্মন স্বাধীন রাজার মতাে রাজ্য শাসন করতে থাকেন । তার রাজধানী ছিল মান্দাসাের বা দশপুর । হূণ আক্রমণ প্রতিরােধ করার জন্য যশােধর্মনের নাম ভারতের ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে । হূণরাজ মিহিরকুলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে । শেষ পর্যন্ত মান্দাসসারের অধিপতি যশােধর্মন মিহিরকুলকে পরাজিত করে হুণদের অত্যাচারের হাত থেকে ভারতবর্ষকে রক্ষা করেন । মান্দাসের শিলালিপির বিবরণ অনুযায়ী যশােধর্মনের বিজয়বাহিনী পশ্চিমে আরবসাগর থেকে পূর্বে ব্ৰত্মপুত্র ও উত্তরে হিমালয় থেকে দক্ষিণে মহেন্দ্রগিরি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল । 


প্রশ্ন । গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের কারণ কি ? 

উত্তর : গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের প্রধান প্রধান কারণ হল — ( ১ ) কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বলতা; ( ২ ) প্রাদেশিক শাসকদের ক্ষমতা বৃদ্ধি ; বৈদেশিক জাতির আক্রমণ ; ( ৩ ) পুষ্যমিত্র জাতির বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি; ( ৪ ) অর্থনৈতিক সমস্যার জটিলতা এবং ( ৫ ) বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি সম্রাটদের বিশেষ আকর্ষণ ।




বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২

বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের উত্থান অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Clg history questions answers কলেজ ইতিহাস বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের উত্থান অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর bouddho o joino dhormer utthan


প্রশ্ন । বৌদ্ধ ও জৈনধর্মের উৎপত্তির কারণ কি ? 

উত্তর : বৈদিক যুগের সরল এবং অনাড়ম্বর হিন্দুধর্ম পরবর্তীকালে নীরস যাগযজ্ঞের এবং পশুবলি ইত্যাদি নিষ্ঠুর অনুষ্ঠানে পরিণত হয় । পুরােপুরি শ্রেণীর ক্ষমতা ধীরে ধীরে সমাজে বৃদ্ধি পেতে থাকে । এই আদর্শচ্যুত ধর্ম, উচ্চবর্ণের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভুত্ব এবং জাতিভেদের কঠোরতার বিরুদ্ধে চিন্তাশীল মানুষের মনে ক্রমেই একটি ঘৃণার ভাব দেখা দেয় । প্রচলিত ধর্মীয় মতবাদের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ জানা এবং উপনিষদের ওপর নির্ভর করে অহিংসার বাণীর প্রচার করতে শুরু করেন । ফলে ধর্মসংস্কারের আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং বৌদ্ধ ও জৈনধর্ম আত্মপ্রকাশ করে । সেজন্য বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম প্রতিবাদী ধর্ম নামেও পরিচিত । 


প্রশ্ন । গৌতমবুদ্ধ কোন বছরে জন্মগ্রহণ করেন ? 

উত্তর : আনুমানিক ৬২৩ অথবা ৫৬৭ অথবা ৫৬৩ খ্রিস্টাব্দে গৌতমবুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন । গৌতম বুদ্ধের পিতার নাম শুদ্ধোধন এবং মাতার নাম মায়া । 


প্রশ্ন । গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান কোথায় ? 

উত্তর : নেপালের তরাই অঞ্চলের কপিলাবস্তুর শাক্যবংশে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন । তিনি শাক্যসিংহ এবং শাক্যমুনি নামেও পরিচিত । 


প্রশ্ন । কোথায় গৌতমবুদ্ধ তার ধর্মমত সর্বপ্রথম প্রচার করেন ? 

উত্তর : বেনারসের নিকটবর্তী সারনাথের মৃগদাবে গৌতম বুদ্ধ সর্বপ্রথম তার নতুন ধর্মমত প্রচার করেন । 


প্রশ্ন । গৌতমবুদ্ধের জীবনের কোন ঘটনাকে ধর্মচক্র প্রবর্তন বলা হয় ? 

উত্তর : বােধি বা দিব্য জ্ঞান লাভের পর গৌতম বুদ্ধ সারনাথে এসে উপস্থিত হন এবং সেখানে পঞভিক্ষু নামে পরিচিত শিষ্যদের উপদেশ - দান করেন ? এই ঘটনা বৌদ্ধধর্মের ইতিহাসে ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ নামে খ্যাত । 


প্রশ্ন । চারটি আর্যসত্য কি ?

উত্তর : পরম জ্ঞানলাভের পর বুদ্ধদেব সারনাথে প্রথম যে মহান তত্ত্ব প্রচার করেন তা আর্যসত্য নামে পরিচিত । তাদের সংখ্যা চারটি বলে তারা চারটি আর্যসত্য নামে পরিচিত । চারটি আর্যসত্য হল : ( ক ) জগৎ দুঃখময় , ( খ ) তৃষ্ণা বা আকাঙ্ক্ষা দুঃখের মূল কারণ ; ( গ ) কামনা ও বাসনার উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে তৃষ্ণার অবসান ঘটে এবং ( ঘ ) দুঃখ নিরােধের একমাত্র উপায় হল অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ । 


প্রশ্ন । ‘ত্রিপিটক’ বলতে কি বুঝায় ? 

উত্তর : বুদ্ধদেবের মৃত্যুর পর তাঁর ধর্মমত ও উপদেশ বাণীকে লিপিবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে রাজগৃহে এক বৌদ্ধ- সঙ্গীতি বা সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছিল । এখানে তাঁর বাণীগুলাে লিপিবদ্ধ করে তিনটি পিটকে বিভক্ত করা হয় : তথা — ‘সূত্তপিটক , বিনয় পিটক এবং অভিধর্ম পিটক । এগুলােতে যথাক্রমে বুদ্ধের উপদেশাবলী , বৌদ্ধ ভিক্ষু ভিক্ষুনীদের আচার - আচরণ ও বৌদ্ধ দর্শন পালিভাষায় লিপিবদ্ধ আছে । এই তিনটি পিটককে ত্রিপিটক বলা হয় । ত্রিপিটক পালিভাষায় রচিত ।

প্রশ্ন । কপিলাবস্তু এবং কুশিনগর কিভাবে বুদ্ধদেবের জীবনের সঙ্গে যুক্ত ? 

উত্তর : বুদ্ধদেব কপিলাবস্তুতে জন্মগ্রহণ করেন এবং কুশিনগরে তাঁর মৃত্যু হয় । 


প্রশ্ন । বৌদ্ধসঙ্গীতি কি ? কোথায় কোথায় এগুলাে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ?  

উত্তর : বুদ্ধদেবের বাণী ও বৌদ্ধদর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে যে আলােচনা সভা হত তা বৌদ্ধসঙ্গীতি নামে অভিহিত হয় । মােট চারটি বৌদ্ধ সঙ্গীতি অনুষ্ঠিত হয়েছিল । প্রথম বৌদ্ধ সঙ্গীতি রাজগৃহে , দ্বিতীয় বৌদ্ধ সঙ্গীতি বৈশালীতে , তৃতীয় বৌদ্ধসঙ্গীতি সম্রাট অশােকের আমলে পাটলিপুত্রে এবং সম্রাট কনিষ্কের আমলে চতুর্থ বা শেষ বৌদ্ধ সঙ্গীতি কাশ্মীরে ( মতান্তরে জলন্ধরে ) অনুষ্ঠিত হয়েছিল । 

প্রশ্ন । জৈনধর্মের প্রবক্তা কে ? জৈনধর্মের মূল কথা কি ?

উত্তর : জৈনধর্মের মূল প্রবর্তক ছিলেন পার্শ্বনাথ ? তিনিই এই ধর্মের মৌলিক নীতিগুলাে স্থির করে যান । এগুলাে হল —অহিংসা , সত্যবাদিতা , চুরি করা থেকে বিরত থাকা এবং অনাসক্তি । মহাবীর এই চারটি নীতির সঙ্গে ব্ৰত্মচর্যনীতি যােগ করেন ।


প্রশ্ন । জৈনধর্মের প্রবর্তক মহবীর কোথায় ‘পরিনির্বাণ’ লাভ করেন ? 

উত্তর : আনুমানিক ৫২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বিহারের পাটনা জেলার অন্তর্গত পাবা নামক স্থানে মহাবীর পরিনির্বাণ লাভ করেন । 


প্রশ্ন । ত্রিরত্ন কি ? 

উত্তর : জৈনধর্মের মূললক্ষ্য হল মােক্ষ বা মুক্তিলাভ । জৈনধর্মমত অনুসারে জ্ঞান ও ক্রিয়ার মাধ্যমে এই মুক্তি অর্জন করা যায় । তাই জ্ঞান, কর্ম ( ক্রিয়া ) ও মুক্তি এই তিনটি গুণকে জৈনরা ত্রিরত্ন বলে । 


প্রশ্ন । আজীবিক কাদের বলা হয় ? 

উত্তর : গৌতমবুদ্ধ ও মহাবীরের সময় সাময়িক গােশালমং খলিপুত্ত আজীবিক নামে একটি ধর্ম সম্প্রদায় স্থাপন করেন । সমন্ন-ফল -সুত্ত এবং ভগবতী সূত্রে এই সম্প্রদায়ের মতাদর্শ জানা যায় । আজীবিকগণ মানুষের কর্মক্ষমতা অপেক্ষা অদৃষ্টবাদে বিশ্বাসী ছিল । সম্রাট অশােকের আমলে আজীবিকদের প্রভাব খুব বৃদ্ধি পায় এবং সম্রাট অশােক গয়ার নিকট বরাবর পাহাড়ে তাদের তিনটি গুহা দান করেন । 



প্রশ্ন । বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্মের মধ্যে পার্থক্য কি ? 

উত্তর : জৈন ও বৌদ্ধ উভয় ধর্মমতই অহিংসা নীতির পুরােপুরি প্রতিষ্ঠিত । জৈনরা অহিংসা নীতি প্রয়ােগের ক্ষেত্রে পুরােপুরি ভাবে চরমপন্থী । বৌদ্ধধর্মে একমাত্র জীবজগৎ সম্পর্কে অহিংসা নীতি পালনের কথা বলা হয়েছে । গৌতম বুদ্ধ ছিলেন মধ্যমপন্থা গ্রহণের পক্ষপাতী । তিনি ছিলেন আতিশয্য বর্জনের চরম সমর্থক । অন্যদিকে মহাবীর বর্ধমান তপস্যা ও কঠোর কৃচ্ছসাধনের পক্ষপাতী ছিলেন । সম্বােধি ও নির্বাণের মধ্য দিয়ে বৃদ্ধিবৃত্তি বিকাশের ওপর বৌদ্ধধর্ম গুরুত্ব আরােপ করে । অপরদিকে জৈনধর্মমতে একমাত্র জিতেন্দ্রিয়তা ও নিরাশক্তির দ্বারাই সিদ্ধিলাভ সম্ভব বলে ঘােষণা করা হয় ।




বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদান অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Clg history questions answers কলেজ ইতিহাস প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদান অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর prachin bharater itihaser upadan


প্রশ্ন । প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের নাম লিখ । 

উত্তর :  দেশী ও বিদেশী সাহিত্য , প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন , কিংবদন্তী প্রভৃতি প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও , প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকেই ইতিহাসের উপাদান হিসাবে বিবেচিত হয় । 

প্রশ্ন । ফা -হিয়েন লিখিত গ্রন্থের নাম কি ? 

উত্তর : গুপ্তসম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে চীনা পরিব্রাজক ফা -হিয়েন ভারতে আসেন । তার রচিত গ্রন্থের নাম ফো - কুয়াে- কি । গুপ্তযুগে ভারতে বৌদ্ধধর্মের অবস্থা ছাড়াও সে আমলের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে অনেক তথ্য ফা -হিয়েন -এর রচনায় পাওয়া যায় ।



প্রশ্ন । রাজতরঙ্গিনী গ্রন্থে কোন রাজ্যের ইতিহাস লিখিত হয়েছে ? ওই গ্রন্থের রচয়িতা কে ?

উত্তর : কলহল রচিত রাজতরঙ্গিনী প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত মূল্যবান উপাদান । সম্ভবত খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতকে এই গ্রন্থ রচিত হয় । খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে শুরু করে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত কাশ্মীরের ইতিহাস এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলেও কাশ্মীর ছাড়াও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের ইতিহাসের কিছু কিছু তথ্যও এই গ্রন্থে স্থান লাভ করেছে । রাজতরঙ্গিনীর বিবরণ অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ ও নির্ভরযােগ্য । 

প্রশ্ন । প্রত্নতত্ত্বকাকে বলে ? 

উত্তর : প্রাচীন নিদর্শন সম্পর্ক অনুসন্ধানকে প্রত্নতত্ত্ব বলে । প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয় — ( ক ) লিপিমালা , ( খ ) মুদ্রাসমূহ এবং ( গ ) স্মৃতিস্তম্ভ ও অন্যান্য নিদর্শন । 


প্রশ্ন । ইন্ডিকা গ্রন্থটি কে রচনা করেন ? 

উত্তর : মৌর্যসম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজ্যসভায় গ্রীকরাজ সেলুকস - এর দূত মেগাস্থিনিস ইন্ডিকা নামক গ্রন্থটি রচনা করেন । মেগাস্থিনিস রচিত মূল গ্রন্থটি পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন লেখকের রচনায় ব্যবহৃত মেগাস্থিনিসের উদ্ধৃতিগুলাে সংগ্রহ করে ম্যাকক্রিন্ডল ইন্ডিকা গ্রন্থটি পুনঃপ্রকাশ করেন । 



প্রশ্ন । বিদেশে প্রাপ্ত কোন শিলালিপি থেকে ভারতের ইতিহাস রচনায় সাহায্য করে ।


উত্তর : এশিয়া মাইনরে প্রাপ্ত বােখাজ - কোয় শিলালিপি থেকে ভারতে আগমনের পূর্বে আর্যদের বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায় । 

পারস্য সম্রাট দারায়ুস এবং পার্সিপােলিস এবং নকস -ই -রুস্তম লেখ দুটি থেকে ভারত - পারস্য সম্পর্কের কথা জানা যায় । 

দক্ষিণ - পূর্ব এশিয়ার কম্বােডিয়া আনাম , চম্পা , যবদ্বীপ বাের্নিও প্রভৃতি স্থানে প্রাপ্ত সংস্কৃত ভাষায় লিখিত শিলালিপিগুলাে থেকে ঐ অঞ্চলে ভারতের উপনিবেশ বিস্তারের কাহিনী জানা যায় । 


প্রশ্ন । অর্থশাস্ত্র কে রচনা করেন ? অর্থশাস্ত্রের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে কি জান ? 

উত্তর : মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের মন্ত্রী ও প্রধান পরামর্শদাতা কৌটিল্য অর্থশাস্ত্র রচনা করেন । অর্থশাস্ত্রে তদনীন্তন ভারতের রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা আলােচিত হয়েছে । 


প্রশ্ন । প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় পুরাণের গুরুত্ব এত কম কেন ? 

উত্তর : প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার অন্যতম উপাদান হিসাবে পুরাণগুলাের নাম উল্লেখ করা হলেও অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে এদের গুরুত্ব বহুলাংশে কম । কারণ হিসাবে বলা যায় যে পুরাণগুলাে প্রধানত জনশ্রুতি এবং কিংবদন্তীর ওপর নির্ভর করে রচিত হয়েছে । কিংবদন্তী এবং জনশ্রুতি থেকে যথার্থ ইতিহাস রচনা করা দুঃসাধ্য । তবে ইতিহাসের অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে যাচাই করে পুরাণের অনেক তথ্যকে ইতিহাসে গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে । 



প্রশ্ন । তহকিক - ই - হিন্দ সম্বন্ধে কি জান ?

উত্তর : গজনীর শাসনকর্তা সুলতান মামুদের সঙ্গে ভারত আগত বিখ্যাত পন্ডিত আল - বেরুনী ভারতে অবস্থানকালে সংস্কৃত ভাষা হিন্দুধর্ম ও দর্শন সম্বন্ধে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন । তিনি ভারত সম্পর্কে কিতাব -উল - হিন্দ বা তহকিক - ই হিন্দ - ( হিন্দুস্তান অনুসন্ধান ) নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন । এই গ্রন্থ থেকে একাদশ শতাব্দীর সূচনাকালে ভারতের ধর্ম , দর্শন , সাহিত্য , বিজ্ঞান ও সামাজিক , রাজনৈতিক ও ধর্মীয় , জীবনের এক মনােজ্ঞ বিবরণ পাওয়া যায় । 


প্রশ্ন । রামায়ণ ও মহাভারত এই দুটি মহাকাব্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কি ? 

উত্তর : রামায়ণ ও মহাভারত আক্ষরিক অর্থে ইতিহাস না হলেও সে যুগের রাজনৈতিক , সামাজিক সাংস্কৃতিক বিষয় ছাড়াও ভৌগােলিক বিবরণ এই দুটি মহাকাব্যে পাওয়া যায় । এই সব দিক থেকে বিচার করলে রামায়ণ ও মহাভারতের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না । 


প্রশ্ন । মৌর্যবংশের ঐতিহাসিক উপাদান হিসাবে অর্থশাস্ত্রের গুরুত্ব কতখানি ? 

উত্তর : কৌটিল্য বা চাণক্য রচিত অর্থশাস্ত্রের মৌর্যবংশের ইতিহাসের উপাদান হিসাবে গুরুত্ব খুবই সামান্য । কারণ অর্থশাস্ত্রের কোথাও মৌর্যবংশ সম্পর্কে বা ঐ বংশের কোন সম্রাটের  নামের পর্যন্ত উল্লেখ নেই । তবে এই গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের একটি বিশেষ যুগের রাজনীতি , অর্থনীতি , শাসননীতি , সমাজনীতি প্রভৃতি সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায় যার সঙ্গে মৌর্যযুগের কিছু কিছু সাদৃশ্য আছে ।