বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২

প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদান অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Clg history questions answers কলেজ ইতিহাস প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের উপাদান অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর prachin bharater itihaser upadan


প্রশ্ন । প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের নাম লিখ । 

উত্তর :  দেশী ও বিদেশী সাহিত্য , প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন , কিংবদন্তী প্রভৃতি প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলেও , প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকেই ইতিহাসের উপাদান হিসাবে বিবেচিত হয় । 

প্রশ্ন । ফা -হিয়েন লিখিত গ্রন্থের নাম কি ? 

উত্তর : গুপ্তসম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে চীনা পরিব্রাজক ফা -হিয়েন ভারতে আসেন । তার রচিত গ্রন্থের নাম ফো - কুয়াে- কি । গুপ্তযুগে ভারতে বৌদ্ধধর্মের অবস্থা ছাড়াও সে আমলের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে অনেক তথ্য ফা -হিয়েন -এর রচনায় পাওয়া যায় ।



প্রশ্ন । রাজতরঙ্গিনী গ্রন্থে কোন রাজ্যের ইতিহাস লিখিত হয়েছে ? ওই গ্রন্থের রচয়িতা কে ?

উত্তর : কলহল রচিত রাজতরঙ্গিনী প্রাচীন ভারতের ইতিহাসের একটি অত্যন্ত মূল্যবান উপাদান । সম্ভবত খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতকে এই গ্রন্থ রচিত হয় । খ্রিস্টীয় সপ্তম থেকে শুরু করে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত কাশ্মীরের ইতিহাস এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলেও কাশ্মীর ছাড়াও ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের ইতিহাসের কিছু কিছু তথ্যও এই গ্রন্থে স্থান লাভ করেছে । রাজতরঙ্গিনীর বিবরণ অত্যন্ত তথ্যপূর্ণ ও নির্ভরযােগ্য । 

প্রশ্ন । প্রত্নতত্ত্বকাকে বলে ? 

উত্তর : প্রাচীন নিদর্শন সম্পর্ক অনুসন্ধানকে প্রত্নতত্ত্ব বলে । প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনকে সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয় — ( ক ) লিপিমালা , ( খ ) মুদ্রাসমূহ এবং ( গ ) স্মৃতিস্তম্ভ ও অন্যান্য নিদর্শন । 


প্রশ্ন । ইন্ডিকা গ্রন্থটি কে রচনা করেন ? 

উত্তর : মৌর্যসম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজ্যসভায় গ্রীকরাজ সেলুকস - এর দূত মেগাস্থিনিস ইন্ডিকা নামক গ্রন্থটি রচনা করেন । মেগাস্থিনিস রচিত মূল গ্রন্থটি পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন লেখকের রচনায় ব্যবহৃত মেগাস্থিনিসের উদ্ধৃতিগুলাে সংগ্রহ করে ম্যাকক্রিন্ডল ইন্ডিকা গ্রন্থটি পুনঃপ্রকাশ করেন । 



প্রশ্ন । বিদেশে প্রাপ্ত কোন শিলালিপি থেকে ভারতের ইতিহাস রচনায় সাহায্য করে ।


উত্তর : এশিয়া মাইনরে প্রাপ্ত বােখাজ - কোয় শিলালিপি থেকে ভারতে আগমনের পূর্বে আর্যদের বিস্তৃত বিবরণ পাওয়া যায় । 

পারস্য সম্রাট দারায়ুস এবং পার্সিপােলিস এবং নকস -ই -রুস্তম লেখ দুটি থেকে ভারত - পারস্য সম্পর্কের কথা জানা যায় । 

দক্ষিণ - পূর্ব এশিয়ার কম্বােডিয়া আনাম , চম্পা , যবদ্বীপ বাের্নিও প্রভৃতি স্থানে প্রাপ্ত সংস্কৃত ভাষায় লিখিত শিলালিপিগুলাে থেকে ঐ অঞ্চলে ভারতের উপনিবেশ বিস্তারের কাহিনী জানা যায় । 


প্রশ্ন । অর্থশাস্ত্র কে রচনা করেন ? অর্থশাস্ত্রের বিষয়বস্তু সম্বন্ধে কি জান ? 

উত্তর : মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট চন্দ্রগুপ্তের মন্ত্রী ও প্রধান পরামর্শদাতা কৌটিল্য অর্থশাস্ত্র রচনা করেন । অর্থশাস্ত্রে তদনীন্তন ভারতের রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা আলােচিত হয়েছে । 


প্রশ্ন । প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনায় পুরাণের গুরুত্ব এত কম কেন ? 

উত্তর : প্রাচীন ভারতের ইতিহাস রচনার অন্যতম উপাদান হিসাবে পুরাণগুলাের নাম উল্লেখ করা হলেও অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে তুলনামূলক বিচারে এদের গুরুত্ব বহুলাংশে কম । কারণ হিসাবে বলা যায় যে পুরাণগুলাে প্রধানত জনশ্রুতি এবং কিংবদন্তীর ওপর নির্ভর করে রচিত হয়েছে । কিংবদন্তী এবং জনশ্রুতি থেকে যথার্থ ইতিহাস রচনা করা দুঃসাধ্য । তবে ইতিহাসের অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে যাচাই করে পুরাণের অনেক তথ্যকে ইতিহাসে গ্রহণ করা সম্ভব হয়েছে । 



প্রশ্ন । তহকিক - ই - হিন্দ সম্বন্ধে কি জান ?

উত্তর : গজনীর শাসনকর্তা সুলতান মামুদের সঙ্গে ভারত আগত বিখ্যাত পন্ডিত আল - বেরুনী ভারতে অবস্থানকালে সংস্কৃত ভাষা হিন্দুধর্ম ও দর্শন সম্বন্ধে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন । তিনি ভারত সম্পর্কে কিতাব -উল - হিন্দ বা তহকিক - ই হিন্দ - ( হিন্দুস্তান অনুসন্ধান ) নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন । এই গ্রন্থ থেকে একাদশ শতাব্দীর সূচনাকালে ভারতের ধর্ম , দর্শন , সাহিত্য , বিজ্ঞান ও সামাজিক , রাজনৈতিক ও ধর্মীয় , জীবনের এক মনােজ্ঞ বিবরণ পাওয়া যায় । 


প্রশ্ন । রামায়ণ ও মহাভারত এই দুটি মহাকাব্যের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কি ? 

উত্তর : রামায়ণ ও মহাভারত আক্ষরিক অর্থে ইতিহাস না হলেও সে যুগের রাজনৈতিক , সামাজিক সাংস্কৃতিক বিষয় ছাড়াও ভৌগােলিক বিবরণ এই দুটি মহাকাব্যে পাওয়া যায় । এই সব দিক থেকে বিচার করলে রামায়ণ ও মহাভারতের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না । 


প্রশ্ন । মৌর্যবংশের ঐতিহাসিক উপাদান হিসাবে অর্থশাস্ত্রের গুরুত্ব কতখানি ? 

উত্তর : কৌটিল্য বা চাণক্য রচিত অর্থশাস্ত্রের মৌর্যবংশের ইতিহাসের উপাদান হিসাবে গুরুত্ব খুবই সামান্য । কারণ অর্থশাস্ত্রের কোথাও মৌর্যবংশ সম্পর্কে বা ঐ বংশের কোন সম্রাটের  নামের পর্যন্ত উল্লেখ নেই । তবে এই গ্রন্থে প্রাচীন ভারতের একটি বিশেষ যুগের রাজনীতি , অর্থনীতি , শাসননীতি , সমাজনীতি প্রভৃতি সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যায় যার সঙ্গে মৌর্যযুগের কিছু কিছু সাদৃশ্য আছে ।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন